+88 01678-343450 info@joykoly.com
সব লেখা

ঢাবির 'বাংলা' বিভাগ, চান্স পেতে যে শর্তগুলো জানতেই হবে

১ অক্টোবর, ২০২৬

শুধু ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ পাওয়া যাবে না। প্রয়োজন নির্ধারিত একাডেমিক যোগ্যতা, বাংলা ও ইংরেজিতে বিভাগভিত্তিক ন্যূনতম নম্বর এবং প্রতিযোগিতামূলক মেধাক্রম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের অফিসিয়াল ভর্তি নির্দেশিকা অনুসারে বাংলা বিভাগে চান্স পেতে যেসব তথ্য জানা জরুরি, সেগুলো এখানে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো।

বাংলা বিভাগ কোন ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ কলা অনুষদভুক্ত। এ বিভাগে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয় কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান (B) ইউনিটের মাধ্যমে। মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন শাখার যোগ্য শিক্ষার্থীরাই এই ইউনিটে আবেদন করে বাংলা বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেতে পারে।

বাংলা বিভাগে মোট আসন কত?

বাংলা বিভাগে মোট আসন ১১০টি।

শাখা আসনসংখ্যা

মানবিক ৮০

বিজ্ঞান ২৫

ব্যবসায় শিক্ষা ৫

নিজ শাখার জন্য বরাদ্দ আসনের বিপরীতেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর প্রতিযোগিতা হবে।

কারা আবেদন করতে পারবে?

মানবিক শাখা

এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ মোট জিপিএ ন্যূনতম ৭.৫০ এবং প্রতিটি পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে।

বিজ্ঞান শাখা

এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ মোট জিপিএ ন্যূনতম ৮.০০ এবং প্রতিটি পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে।

ব্যবসায় শিক্ষা শাখা

এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ মোট জিপিএ ন্যূনতম ৭.৫০ এবং প্রতিটি পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে।

এগুলো কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে আবেদন করার প্রাথমিক যোগ্যতা। বাংলা বিভাগ পেতে আরও কিছু বিশেষ শর্ত পূরণ করতে হবে।

বাংলা বিভাগের বিশেষ শর্ত

বাংলা বিভাগে ভর্তির জন্য—

এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় বাংলা অবশ্যই ২০০ নম্বরের বিষয় হিসেবে থাকতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার বাংলা অংশে ন্যূনতম ১৮ নম্বর পেতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার ইংরেজি অংশে ন্যূনতম ১৪ নম্বর পেতে হবে।

অতএব, মোট নম্বর ভালো হলেও বাংলা বা ইংরেজিতে উল্লিখিত ন্যূনতম নম্বর না পেলে বাংলা বিভাগের জন্য বিবেচিত হওয়া যাবে না।

ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন

ভর্তি পরীক্ষা মোট ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে।

MCQ অংশ

বিষয় নম্বর

বাংলা ১৫

ইংরেজি ১৫

সাধারণ জ্ঞান ৩০

মোট ৬০

MCQ পরীক্ষার সময় ৪৫ মিনিট।

লিখিত অংশ

বিষয় নম্বর

বাংলা ২০

ইংরেজি ২০

মোট ৪০

লিখিত পরীক্ষার সময় ৪৫ মিনিট। অর্থাৎ MCQ ও লিখিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষা ১০০ নম্বরের এবং মোট সময় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।

পাস করতে কত নম্বর লাগবে?

ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের মধ্যে সামগ্রিক পাস নম্বর ৪০। তবে শুধু মোট ৪০ পেলেই হবে না; প্রতিটি অংশে আলাদা পাসের শর্ত রয়েছে।

MCQ অংশে

বাংলায় ন্যূনতম ৫ নম্বর

ইংরেজিতে ন্যূনতম ৫ নম্বর

সাধারণ জ্ঞানে ন্যূনতম ১০ নম্বর

তিন বিষয়ে মিলিয়ে ন্যূনতম ২৪ নম্বর

লিখিত অংশে

বাংলায় ন্যূনতম ৫ নম্বর

ইংরেজিতে ন্যূনতম ৫ নম্বর

লিখিত অংশে মোট ন্যূনতম ১১ নম্বর

বাংলা বিভাগ পেতে সাধারণ পাসের শর্তের পাশাপাশি বাংলা অংশে মোট ১৮ এবং ইংরেজি অংশে মোট ১৪ নম্বরের বিভাগীয় শর্তও পূরণ করতে হবে।

নেগেটিভ মার্কিং

MCQ অংশে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। অর্থাৎ চারটি ভুল উত্তরের জন্য মোট ১ নম্বর কর্তন হবে। তাই নিশ্চিত ধারণা ছাড়া অতিরিক্ত অনুমাননির্ভর উত্তর দেওয়া উচিত নয়।

লিখিত খাতা কারা মূল্যায়নের সুযোগ পাবে?

MCQ অংশে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ইউনিটের নির্ধারিত আসনসংখ্যার সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পরীক্ষার্থীর লিখিত উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

তাই MCQ-তে শুধু ন্যূনতম নম্বর পেলেই লিখিত খাতা মূল্যায়নের নিশ্চয়তা নেই; প্রতিযোগিতামূলক স্কোর অর্জন করতে হবে।

মেধাস্কোর কীভাবে তৈরি হবে?

চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি হবে মোট ১২০ নম্বরে।

মূল্যায়নের অংশ নম্বর

ভর্তি পরীক্ষা ১০০

এসএসসি/সমমানের ফল ১০

এইচএসসি/সমমানের ফল ১০

সর্বমোট ১২০

মেধাস্কোরের হিসাব:

মেধাস্কোর = ভর্তি পরীক্ষার নম্বর + (এসএসসি জিপিএ × ২) + (এইচএসসি জিপিএ × ২)

একাধিক শিক্ষার্থীর মেধাস্কোর সমান হলে ভর্তি পরীক্ষার বাংলা, ইংরেজি এবং নির্দেশিকায় নির্ধারিত পরবর্তী মানদণ্ড অনুসারে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।

বাংলা বিভাগ পেতে কত নম্বর লাগবে?

অফিসিয়াল নির্দেশিকায় বাংলা বিভাগের জন্য কোনো স্থায়ী ‘চান্স মার্ক’ ঘোষণা করা নেই। চান্স নির্ভর করবে প্রশ্নের কঠিনতা, পরীক্ষার্থীদের ফল, নিজ শাখার আসনসংখ্যা, বিষয় পছন্দক্রম, সংশ্লিষ্ট বছরের প্রতিযোগিতা, বাংলা ও ইংরেজির বিভাগীয় শর্ত পূরণ এবং সামগ্রিক মেধাস্কোরের ওপর।

তাই শুধু পাস নম্বরকে লক্ষ্য না করে বাংলা ও ইংরেজিতে শক্তিশালী স্কোরসহ যত বেশি সম্ভব মোট নম্বর অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

প্রশ্নের সিলেবাস

প্রশ্ন উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পর্যায়ের অনুমোদিত পাঠ্যক্রম অনুসারে প্রণীত হবে।

বাংলা MCQ ও লিখিত প্রস্তুতি

বাংলা প্রস্তুতিতে পাঠ্য গদ্য ও কবিতা, লেখক ও কবি পরিচিতি, শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা, সাহিত্যবিষয়ক তথ্য, বাংলা ব্যাকরণ, বানান ও বাক্যশুদ্ধি, সন্ধি, সমাস, উপসর্গ ও প্রত্যয়, বাগ্‌ধারা ও এককথায় প্রকাশ, ভাষা–সাহিত্য–সংস্কৃতিবিষয়ক ধারণা এবং অনুধাবন ও বিশ্লেষণমূলক লিখিত উত্তরে গুরুত্ব দিতে হবে।

লিখিত বাংলা অংশের প্রস্তুতিতে পাঠ্যসূচিভুক্ত পাঠের মূলভাব, কবিতার উদ্ধৃতির ব্যাখ্যা, গদ্য বা নাটকের অংশের ব্যাখ্যা, লেখক–কবি পরিচিতি, ব্যাকরণ, অনুচ্ছেদ, সারাংশ বা সারমর্ম, বানানশুদ্ধি, বাক্য সংশোধন এবং অনুবাদ নিয়মিত অনুশীলন করা যেতে পারে।

ইংরেজি প্রস্তুতি

ইংরেজির জন্য Grammar, Vocabulary, Comprehension, Short Paragraph, Explanation with Reference to the Context, Rearranging, Translation, Punctuation, Gap Filling, Sentence Making এবং Changing and Transformation of Sentences অনুশীলন করতে হবে।

সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতি

সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, পৌরনীতি ও সুশাসন, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ইতিহাস, যুক্তিবিদ্যা, ভূগোল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে।

কীভাবে প্রস্তুতি শুরু করবে?

প্রথম ধাপ: বিভাগ পাওয়ার শর্ত লিখে রাখো

বাংলা বিভাগ লক্ষ্য হলে শুরু থেকেই বাংলা অংশে ন্যূনতম ১৮, ইংরেজি অংশে ন্যূনতম ১৪, মোট পরীক্ষায় কমপক্ষে ৪০ এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক মেধাক্রম—এই চারটি বিষয় মাথায় রাখো। তবে ন্যূনতম নম্বরকে লক্ষ্য না ধরে এর চেয়ে বেশি নম্বর পাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: বাংলা ও ইংরেজিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দাও

বাংলা বিভাগের জন্য বাংলা ও ইংরেজি—দুটি বিষয়েই আলাদা ন্যূনতম নম্বর প্রয়োজন। তাই শুধু সাধারণ জ্ঞান পড়ে মোট নম্বর বাড়ানোর কৌশল যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন বাংলা MCQ, বাংলা লিখিত উত্তর, ইংরেজি Grammar ও Vocabulary এবং English Written Practice করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: নিয়মিত লিখিত অনুশীলন করো

শুধু পড়ে গেলে লিখিত অংশে ভালো করা কঠিন। প্রতিদিন সময় ধরে ব্যাখ্যা, মূলভাব, অনুচ্ছেদ, সারাংশ ও সারমর্ম, অনুবাদ, ব্যাকরণভিত্তিক প্রশ্ন, English Paragraph এবং Comprehension হাতে লিখে অনুশীলন করো। উত্তর যেন সংক্ষিপ্ত, তথ্যসমৃদ্ধ, শুদ্ধ ও প্রশ্নানুগ হয়।

চতুর্থ ধাপ: সাধারণ জ্ঞানে নিরাপদ স্কোর তৈরি করো

সাধারণ জ্ঞান ৩০ নম্বরের হওয়ায় এটি মেধাক্রমে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তবে নেগেটিভ মার্কিং মাথায় রেখে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করে পড়তে হবে।

পঞ্চম ধাপ: বিগত প্রশ্ন সমাধান করো

বিগত প্রশ্ন থেকে কোন অধ্যায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ, প্রশ্নের ভাষা কেমন, লিখিত উত্তর কতটুকু লেখা প্রয়োজন, কোন ভুলগুলো বারবার হচ্ছে এবং ৪৫ মিনিটে MCQ শেষ করা যাচ্ছে কি না—এসব বিশ্লেষণ করো।

ষষ্ঠ ধাপ: পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দাও

৪৫ মিনিটে MCQ এবং ৪৫ মিনিটে লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার অনুশীলন করো। প্রতিটি মডেল টেস্টের পর ভুলের কারণ আলাদা করে লিখে সংশ্লিষ্ট বিষয় পুনরায় পড়ো।

প্রস্তুতির জন্য জয়কলির বই

বাংলা MCQ ও বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি—বাংলা বিচিত্রা  

ইংরেজি MCQ ও লিখিত প্রস্তুতি—Exam English 

সাধারণ জ্ঞান—জয়কলি GK 

লিখিত বাংলা ও ইংরেজি অনুশীলন—Written মানবিক 

বিগত প্রশ্ন ও মডেল টেস্ট—জয়কলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট

এর পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি বোর্ড বইয়ের পাঠ্যাংশ এবং অনুশীলনীর প্রশ্ন অবশ্যই পড়তে হবে।

বিষয় পছন্দ ও ভর্তি

ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে Subject Choice Form পূরণ করতে হবে। বাংলা বিভাগ লক্ষ্য হলে পছন্দক্রমে বাংলা বিভাগকে উপযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। বিষয় মনোনয়ন পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি সম্পন্ন না করলে সুযোগ হারাতে হতে পারে।

বিভাগ পরিবর্তন বা Migration-এর সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা, শূন্য আসন, মেধাক্রম এবং বিভাগীয় যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

শেষ কথা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে আসন মাত্র ১১০টি। তাই শুধু ইউনিটে পাস করলেই হবে না; বাংলা ও ইংরেজির বিভাগীয় শর্ত পূরণ করে নিজ শাখার প্রতিযোগিতায় ভালো মেধাক্রম অর্জন করতে হবে।

বাংলা বিভাগ লক্ষ্য হলে প্রস্তুতির মূলমন্ত্র হোক—বোর্ড বইয়ে ভিত্তি, বাংলা বিচিত্রায় বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, Exam English-এ নিয়মিত চর্চা, জয়কলি GK-তে সাধারণ জ্ঞান এবং প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্টে চূড়ান্ত যাচাই।

তথ্যসূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের অফিসিয়াল ভর্তি নির্দেশিকা। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে নিয়ম, আসনসংখ্যা বা শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে; নতুন নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে সেটিই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

মন্তব্য ও উত্তর

মন্তব্য লোড হচ্ছে…