ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইউনিটে ভর্তি হতে শুধু আঁকায় দক্ষ হলেই হবে না। সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন—দুই অংশেই ভালো প্রস্তুতি, নির্ধারিত একাডেমিক যোগ্যতা এবং প্রতিযোগিতামূলক মেধাক্রম প্রয়োজন। বিশেষ করে ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষায় অঙ্কনের জন্য বরাদ্দ ৬০ নম্বর হওয়ায় নিয়মিত হাতে-কলমে অনুশীলনের বিকল্প নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের চারুকলা ইউনিটের অফিসিয়াল ভর্তি নির্দেশিকা অনুসারে আবেদনযোগ্যতা, বিভাগ ও আসনসংখ্যা, মানবণ্টন, পরীক্ষার বিষয়, প্রয়োজনীয় উপকরণ, মেধাস্কোর এবং প্রস্তুতির কৌশল এখানে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো।
> গুরুত্বপূর্ণ নোট: নিচের নিয়ম, তারিখ ও আসনসংখ্যা ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশিকাভিত্তিক। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে সেটিই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
চারুকলা ইউনিটে কোন কোন বিভাগ রয়েছে?
চারুকলা অনুষদের চার বছর মেয়াদি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের অধীনে মোট ৮টি বিভাগ এবং কোটাসহ ১৩০টি আসন রয়েছে।
অঙ্কন ও চিত্রায়ণ– ২৫
গ্রাফিক ডিজাইন– ২৫
প্রিন্টমেকিং– ১২
প্রাচ্যকলা– ১৫
সিরামিক– ১০
ভাস্কর্য– ১০
কারুশিল্প– ১৫
শিল্পকলার ইতিহাস– ১৮
ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীর মেধাক্রম ও অনলাইনে দেওয়া বিভাগ পছন্দক্রমের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভাগ নির্ধারিত হবে।
কারা আবেদন করতে পারবে?
বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষাসহ যেকোনো শাখার শিক্ষার্থী নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে চারুকলা ইউনিটে আবেদন করতে পারবে।
২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী আবেদনকারীর—
এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার চতুর্থ বিষয়সহ জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৬.৫০ থাকতে হবে।
উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে।
২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এসএসসি/সমমান এবং ২০২৫ সালে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
অর্থাৎ মোট জিপিএ ৬.৫০ থাকলেও কোনো একটি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০০-এর কম হলে আবেদন করা যাবে না।
O-Level ও A-Level শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা
২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে IGCSE/O-Level পরীক্ষায় অন্তত ৫টি বিষয় এবং ২০২৫ সালে ফল প্রকাশিত IAL/GCE A-Level পরীক্ষায় অন্তত ২টি বিষয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবে।
মোট ৭টি বিষয়ের মধ্যে ৪টিতে কমপক্ষে B গ্রেড এবং ৩টিতে কমপক্ষে C গ্রেড থাকতে হবে। বিদেশি পাঠক্রম, সমমানের সার্টিফিকেট বা ডিপ্লোমা এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে ভর্তি ওয়েবসাইটের Equivalence Application থেকে সমতা নিরূপণ করে পাওয়া Equivalence ID ব্যবহার করতে হবে।
আবেদনসংক্রান্ত তথ্য
২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছিল ২৯ অক্টোবর ২০২৫ দুপুর ১২টায় এবং শেষ হয়েছিল ১৬ নভেম্বর ২০২৫ রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে। আবেদন ফি ছিল মোট ১,২৫০ টাকা।
আবেদনের ওয়েবসাইট: https://admission.eis.du.ac.bd
আবেদনের সময় এসএসসি ও এইচএসসির তথ্য, বর্তমান ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর, পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, নিজের ছবি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটার তথ্য প্রয়োজন হয়েছিল।
ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন
চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দুটি অংশে বিভক্ত—সাধারণ জ্ঞান এবং অঙ্কন। দুটি পরীক্ষা একই দিনে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
সাধারণ জ্ঞান (MCQ)— ৪০
অঙ্কন— ৬০
মোট— ১০০
সময়— ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
সাধারণ জ্ঞান অংশে কী ধরনের প্রশ্ন থাকবে?
সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা MCQ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রশ্নের ক্ষেত্রগুলো হলো—
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পঠিত বাংলা
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পঠিত ইংরেজি
চারুকলার বিভিন্ন বিভাগ ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান
শিল্প
সাহিত্য
সংস্কৃতি
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
সমসাময়িক ঘটনাবলি
এই অংশে শুধু সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান পড়লে হবে না। শিল্পী, শিল্পকর্ম, শিল্পধারা, নকশা, ভাস্কর্য, স্থাপত্য, লোকশিল্প, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বাংলা-ইংরেজির মৌলিক প্রস্তুতিও রাখতে হবে।
অঙ্কন পরীক্ষায় কী থাকবে?
অঙ্কন পরীক্ষায় মানুষের বিভিন্ন দেহভঙ্গির ফটোগ্রাফ দেখে Human Figure Drawing করতে হবে। পূর্ণমান ৬০ এবং সময় ১ ঘণ্টা।
এ অংশে পরীক্ষকের নজরে সাধারণত যেসব দক্ষতা আসে—
মানবদেহের সঠিক অনুপাত
অঙ্গভঙ্গি ও চলনের স্বাভাবিকতা
ছবির ভেতরে ফিগারের অবস্থান ও কম্পোজিশন
রেখার নিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাস
আলো-ছায়া ও ভলিউমের ধারণা
পর্যবেক্ষণক্ষমতা
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার দক্ষতা
অফিসিয়াল নির্দেশিকায় মূল্যায়নের আলাদা নম্বরবণ্টন দেওয়া নেই। তাই কোনো অনানুষ্ঠানিক নম্বরবণ্টনকে চূড়ান্ত ধরে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত নয়।
অঙ্কন পরীক্ষায় কী কী সঙ্গে নিতে হবে?
বিশ্ববিদ্যালয় শুধু অঙ্কনের কাগজ সরবরাহ করবে। পরীক্ষার্থীকে নিজের প্রয়োজনীয় উপকরণ সঙ্গে নিতে হবে। যেমন—
পেন্সিল
ইরেজার
কলম
ক্লিপবোর্ড
নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট পেন্সিল গ্রেড উল্লেখ করা হয়নি। অনুশীলনের সময় HB, 2B, 4B বা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য গ্রেড ব্যবহার করা যেতে পারে; তবে পরীক্ষার দিনের অনুমোদিত উপকরণ সম্পর্কে প্রবেশপত্র ও সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
নেগেটিভ মার্কিং ও পাস নম্বর
সাধারণ জ্ঞান MCQ অংশে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। চারটি ভুল উত্তরে মোট ১ নম্বর কর্তন হবে। তাই নিশ্চিত ধারণা ছাড়া অতিরিক্ত অনুমাননির্ভর উত্তর দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন মিলিয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় মোট ৪০% নম্বর পেলে উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। অফিসিয়াল নির্দেশিকায় সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কনে পৃথক পাস নম্বর উল্লেখ করা হয়নি।
তবে ৪০ নম্বর পাওয়া শুধু পাসের শর্ত; বিভাগ পাওয়া নির্ভর করবে আসনসংখ্যা, মেধাক্রম ও বিভাগ পছন্দক্রমের ওপর।
চূড়ান্ত মেধাস্কোর কীভাবে তৈরি হবে?
মেধাতালিকা তৈরি হবে মোট ১২০ নম্বরে।
মূল্যায়নের অংশ নম্বর
ভর্তি পরীক্ষা ১০০
এসএসসি/সমমানের ফল ১০
এইচএসসি/সমমানের ফল ১০
সর্বমোট ১২০
এসএসসি ও এইচএসসির ফলকে কীভাবে ১০ নম্বর করে রূপান্তর করা হবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। নির্দেশিকায় আলাদা গুণের সূত্র উল্লেখ নেই; তাই অনুমানভিত্তিক কোনো সূত্র ব্যবহার না করাই সঠিক।
চারুকলা ইউনিটে ‘চান্স মার্ক’ কত?
অফিসিয়াল নির্দেশিকায় কোনো স্থায়ী চান্স মার্ক ঘোষণা করা হয়নি। একটি শিক্ষাবর্ষে প্রয়োজনীয় নম্বর নির্ভর করে প্রশ্নের কঠিনতা, পরীক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স, আসনসংখ্যা, মেধাস্কোর এবং বিভাগ পছন্দক্রমের ওপর।
তাই ৪০ নম্বরকে লক্ষ্য না ধরে সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন—দুই অংশেই যত বেশি সম্ভব নম্বর অর্জনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
কীভাবে সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতি নেবে?
প্রথমে বাংলা ও ইংরেজির মৌলিক অংশ ঝালিয়ে নাও। এরপর বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি, বিশ্বশিল্প, বিখ্যাত শিল্পী ও শিল্পকর্ম, চারুকলার বিভিন্ন মাধ্যম, লোকশিল্প, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, প্রত্নতত্ত্ব, সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পড়ো।
প্রতিদিন বিষয়ভিত্তিক MCQ সমাধান করবে এবং ভুল উত্তরগুলো আলাদা খাতায় লিখে রাখবে। নেগেটিভ মার্কিং থাকায় অপশন বিশ্লেষণ ও প্রশ্ন বাদ দেওয়ার কৌশলও অনুশীলন করতে হবে।
কীভাবে Human Figure Drawing অনুশীলন করবে?
১. অঙ্গভঙ্গি ধরার অনুশীলন
প্রথমে ৩০ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিটের Gesture Drawing করো। এতে মানুষের ভঙ্গি, ভারসাম্য ও চলন দ্রুত ধরার দক্ষতা বাড়ে।
২. অনুপাত শেখো
মাথা, ধড়, হাত, পা, কাঁধ, কোমর ও জয়েন্টের পারস্পরিক অনুপাত বুঝে আঁকো। শুধু মুখের বিস্তারিত এঁকে সময় নষ্ট না করে পুরো ফিগারের গঠন ঠিক রাখো।
৩. সহজ জ্যামিতিক গঠন ব্যবহার করো
মানবদেহকে প্রথমে রেখা, ডিম্বাকার, সিলিন্ডার ও ব্লকের মতো সহজ আকারে ভেঙে নাও। গঠন ঠিক হলে ধীরে ধীরে বাহ্যিক রেখা ও টোন যোগ করো।
৪. আলো-ছায়া অনুশীলন করো
আলোর উৎস বুঝে বড় Shadow Shape আগে ধরো। অতিরিক্ত ঘষামাজা না করে পরিষ্কার টোন ও দৃশ্যমান ভলিউম তৈরি করার চেষ্টা করো।
৫. ফটোগ্রাফ দেখে আঁকো
কারণ অফিসিয়াল নির্দেশিকা অনুযায়ী মানুষের বিভিন্ন দেহভঙ্গির ফটোগ্রাফ থেকেই প্রশ্ন হবে। বসা, দাঁড়ানো, হাঁটা, কাজ করা, সামনে-পেছনে ঝুঁকে থাকা—এ ধরনের বিভিন্ন ভঙ্গি নিয়মিত আঁকো।
৬. সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন করো
সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ১ ঘণ্টার পূর্ণাঙ্গ Human Figure Drawing অনুশীলন করো। শেষ ১০ মিনিট সংশোধন, টোন ও কম্পোজিশন ঠিক করার জন্য রাখো।
৯০ মিনিটের পরীক্ষায় সময় ব্যবস্থাপনা
সাধারণ জ্ঞানের জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কনের জন্য ১ ঘণ্টা আলাদা করে নির্ধারিত। সাধারণ জ্ঞানে একটি প্রশ্নে বেশি সময় নষ্ট করবে না। প্রথমে নিশ্চিত উত্তরগুলো দাও, পরে সন্দেহযুক্ত প্রশ্ন দেখো।
অঙ্কনের ৬০ মিনিট এভাবে ভাগ করা যেতে পারে—
প্রথম ৫ মিনিট: ছবিটি পর্যবেক্ষণ ও কম্পোজিশন ঠিক করা
পরবর্তী ১০ মিনিট: Gesture ও মৌলিক গঠন
পরবর্তী ২৫ মিনিট: অনুপাত ও প্রধান রেখা সম্পন্ন করা
পরবর্তী ১৫ মিনিট: আলো-ছায়া ও প্রয়োজনীয় বিস্তারিত
শেষ ৫ মিনিট: ভুল সংশোধন ও পরিচ্ছন্নতা যাচাই
এটি অনুশীলনের একটি প্রস্তাবিত কৌশল; নিজের কাজের গতি অনুযায়ী সময় সামান্য পরিবর্তন করা যেতে পারে।
প্রস্তুতির কার্যকর ধাপ
প্রথম ধাপ: ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন ও সিলেবাস বুঝে সাধারণ জ্ঞান এবং অঙ্কনের আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করো।
দ্বিতীয় ধাপ: প্রতিদিন সাধারণ জ্ঞানের নির্দিষ্ট একটি বিষয় পড়ো এবং অধ্যায়ভিত্তিক MCQ সমাধান করো।
তৃতীয় ধাপ: প্রতিদিন অন্তত একটি Human Figure-এর Gesture বা Structure Drawing করো।
চতুর্থ ধাপ: বিগত বছরের সাধারণ জ্ঞান ও ব্যবহারিক অঙ্কনের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করো।
পঞ্চম ধাপ: নিয়মিত ৩০ মিনিটে সাধারণ জ্ঞান এবং ৬০ মিনিটে অঙ্কনের পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দাও।
ষষ্ঠ ধাপ: প্রতিটি মডেল টেস্টের পর ভুল MCQ এবং অঙ্কনের অনুপাত, রেখা, আলো-ছায়া ও সময় ব্যবস্থাপনার ঘাটতি লিখে সংশোধন করো।
দৈনিক প্রস্তুতির নমুনা রুটিন
প্রস্তুতির অংশ প্রস্তাবিত সময়
বাংলা ও ইংরেজি ৩০ মিনিট
শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সাধারণ জ্ঞান ১ ঘণ্টা
চারুকলাবিষয়ক MCQ ৩০ মিনিট
Gesture ও Structure Drawing ৩০ মিনিট
Human Figure Drawing ১ ঘণ্টা
বিগত প্রশ্ন ও ভুল বিশ্লেষণ ৩০ মিনিট
নিজের দুর্বলতা ও হাতে থাকা সময় অনুযায়ী রুটিন পরিবর্তন করা যাবে। তবে সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন—দুটির সঙ্গেই প্রতিদিন সংযোগ রাখা ভালো।
প্রস্তুতির জন্য জয়কলির বই
ঢাবির চারুকলা ইউনিটের সমন্বিত প্রস্তুতির জন্য অনুসরণ করতে পারো জয়কলির চারুকলা বিচিত্রা। বইটিতে রয়েছে—
বিগত প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর, সঠিক ব্যাখ্যা ও প্রশ্নসংশ্লিষ্ট তথ্য
বিষয়ভিত্তিক ফাইনাল সাজেশন
বিগত বছরের ব্যবহারিক অঙ্কন পরীক্ষার প্রশ্ন
ভর্তি পরীক্ষার অনুরূপ মডেল টেস্ট
বইয়ের প্রস্তুতির পাশাপাশি নিয়মিত হাতে-কলমে Human Figure Drawing অনুশীলন অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। শুধু অঙ্কনের প্রশ্ন দেখে গেলে দক্ষতা তৈরি হবে না; প্রতিদিন আঁকতে হবে।
পরীক্ষার দিন কী মনে রাখবে?
পরীক্ষার হলে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে পৌঁছাবে।
মূল প্রবেশপত্র সঙ্গে রাখবে।
পেন্সিল, ইরেজার, কলম ও ক্লিপবোর্ড সঙ্গে নেবে।
উত্তরপত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে স্পষ্টভাবে লিখবে।
মোবাইল ফোন, বই, কাগজপত্র, ব্যাগ, ক্যালকুলেটর, ক্যামেরা, ট্যাব, ইলেকট্রনিক ডিভাইসযুক্ত কলম, ঘড়ি, চশমা বা ইয়ারফোন নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করবে না।
সর্বশেষ অনুমোদিত ও নিষিদ্ধ উপকরণের তালিকা প্রবেশপত্র ও অফিসিয়াল নোটিশ থেকে পুনরায় যাচাই করবে।
ফল প্রকাশের পর করণীয়
ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে বিভাগ পছন্দক্রমের ফরম পূরণ করতে হবে। সময়ের মধ্যে পছন্দক্রম না দিলে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে আগ্রহী নয় বলে বিবেচিত হতে পারে।
মেধাক্রম ও পছন্দক্রম অনুসারে বিভাগ নির্ধারণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় ভর্তির সুযোগ হারাতে হবে।
সাক্ষাৎকার ও ভর্তির সময় সাধারণত ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, এসএসসি ও এইচএসসির মূল নম্বরপত্র বা ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রশংসাপত্র, এসএসসি সনদ, প্রয়োজনীয় ফটোকপি, ছবি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশিত অন্যান্য কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। চূড়ান্ত তালিকা সংশ্লিষ্ট নোটিশ থেকে মিলিয়ে নেবে।
শেষ কথা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইউনিটে আসন মাত্র ১৩০টি। তাই শুধু ৪০ নম্বর পেয়ে পাস করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। সাধারণ জ্ঞানে নিরাপদ স্কোর এবং Human Figure Drawing-এ শক্তিশালী দক্ষতা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে প্রতিযোগিতামূলক মেধাক্রম তৈরি করতে হবে।
প্রস্তুতির মূলমন্ত্র হোক—ধারণা পরিষ্কার করো, প্রতিদিন আঁকো, বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করো এবং সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা দাও। সমন্বিত প্রস্তুতিতে সঙ্গে রাখতে পারো জয়কলির চারুকলা বিচিত্রা।
তথ্যসূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের অফিসিয়াল ভর্তি নির্দেশিকা। নতুন শিক্ষাবর্ষে নিয়ম, যোগ্যতা, ফি, তারিখ বা আসনসংখ্যা পরিবর্তিত হলে সর্বশেষ অফিসিয়াল নির্দেশিকাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
#ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয় #ঢাবি_চারুকলা_ইউনিট #চারুকলা_ভর্তি #FineArtsAdmission #HumanFigureDrawing #চারুকলা_বিচিত্রা #বিশ্ববিদ্যালয়_ভর্তি #ভর্তি_প্রস্তুতি #জয়কলি #Joykoly




মন্তব্য ও উত্তর
মন্তব্য লোড হচ্ছে…