রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে পড়তে চাইলে শুধু A ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করলেই হবে না। বাংলা ও ইংরেজিতে আলাদা ন্যূনতম নম্বর অর্জন, MCQ পরীক্ষার মেধাক্রমে প্রথম ১,৫০০ জনের মধ্যে থাকা এবং ৫০ নম্বরের ইংরেজি লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা—এই প্রতিটি ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করতে হবে।

তাই প্রস্তুতির লক্ষ্য শুধু A ইউনিটের সাধারণ পাস নম্বর অর্জন করা নয়। শুরু থেকেই বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান এবং লিখিত ইংরেজির সমন্বয়ে পরিকল্পিত প্রস্তুতি নিতে হবে।
আইন অনুষদের অধীনে কোন কোন বিভাগ রয়েছে?
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধীনে দুটি বিভাগ রয়েছে—
◆ আইন বিভাগ
◆ আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ
দুটি বিভাগই A ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত। মানবিকের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে এই বিভাগগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাবে।
কারা A ইউনিটে আবেদন করতে পারবে?
মানবিক শাখা
মানবিক শাখার আবেদনকারীর এসএসসি বা সমমান এবং এইচএসসি বা সমমান—উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে। চতুর্থ বিষয়সহ দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৭.০০ হতে হবে।
বাণিজ্য শাখা
বাণিজ্য শাখার আবেদনকারীর উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ এবং চতুর্থ বিষয়সহ মোট জিপিএ কমপক্ষে ৭.০০ থাকতে হবে।
বিজ্ঞান শাখা
বিজ্ঞান শাখার আবেদনকারীর এসএসসি বা সমমান এবং এইচএসসি বা সমমান—উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে। চতুর্থ বিষয়সহ দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ কমপক্ষে ৮.০০ হতে হবে।
শাখাভিত্তিক যোগ্যতা একনজরে
ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করলেই আইন অনুষদে ভর্তি নিশ্চিত হবে না। এটি শুধু A ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করার সুযোগ তৈরি করবে।

A ইউনিটের MCQ পরীক্ষার মানবণ্টন
A ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান থেকে মোট ৮০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকবে। পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ এবং সময় ১ ঘণ্টা।

◆ পরীক্ষার পদ্ধতি: MCQ
◆ পরীক্ষার সময়: ১ ঘণ্টা
◆ সাধারণ পাস নম্বর: ৪০
◆ প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কর্তন: ০.২৫ নম্বর
৬০ মিনিটে ৮০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্ন বুঝে উত্তর দেওয়ার জন্য গড়ে এক মিনিটেরও কম সময় পাওয়া যাবে। তাই বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে উত্তর দেওয়ার অনুশীলন জরুরি।
আইন বিভাগে সুযোগ পাওয়ার বিশেষ শর্ত
আইন বিভাগ অথবা আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে ভর্তির জন্য শুধু A ইউনিটে মোট ৪০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া যথেষ্ট নয়। MCQ পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি—দুটি অংশেই আলাদাভাবে ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
বাংলা ও ইংরেজি প্রতিটি অংশের পূর্ণমান ৩৫। সে হিসাবে প্রতিটি অংশে ন্যূনতম ১৫.৭৫ নম্বর অর্জন করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ: মোট নম্বর ৪০ বা তার বেশি হলেও বাংলা অথবা ইংরেজির কোনো একটিতে ৪৫ শতাংশের কম পেলে আইন অনুষদের জন্য বিবেচিত হওয়া যাবে না।
বাংলা–ইংরেজির শর্ত পূরণ করলেই কি লিখিত পরীক্ষায় ডাকা হবে?
বাংলা ও ইংরেজিতে ৪৫ শতাংশ করে নম্বর পেলেই লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা তৈরি হবে না। এই শর্ত পূরণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে MCQ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া প্রথম ১,৫০০ জনকে সমন্বিত লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে।
অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে—
◆ বাংলা ও ইংরেজিতে আলাদাভাবে ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নম্বর অর্জন
◆ যোগ্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যে MCQ মেধাক্রমে প্রথম ১,৫০০ জনের মধ্যে অবস্থান
এ কারণে প্রস্তুতির লক্ষ্য শুধু বিষয়ভিত্তিক ন্যূনতম শর্ত পূরণ করা হওয়া উচিত নয়। MCQ পরীক্ষায় প্রতিযোগিতামূলক মোট নম্বর অর্জনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার মানবণ্টন
লিখিত পরীক্ষা ইংরেজি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার মোট নম্বর ৫০।
লিখিত পরীক্ষার বিষয় নম্বর
Reading Comprehension ২৫
Essay ২৫
মোট৫০
একই সমন্বিত লিখিত পরীক্ষার ফল আইন বিভাগ, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ এবং ইংরেজি বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।
Reading Comprehension অংশে Passage বুঝে নির্ভুল ও প্রাসঙ্গিক উত্তর দিতে হবে। Essay অংশে বিষয়বস্তু, যুক্তি, অনুচ্ছেদবিন্যাস, ভাষার শুদ্ধতা এবং উপস্থাপনার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
চূড়ান্ত মেধাতালিকা কীভাবে তৈরি হবে?
আইন বিভাগ ও আইন এবং ভূমি প্রশাসন বিভাগের চূড়ান্ত মেধাতালিকা ও অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি হবে MCQ এবং ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার যৌথ ফলের ভিত্তিতে।
অর্থাৎ চূড়ান্ত মূল্যায়নে বিবেচিত হবে—
◆ A ইউনিটের MCQ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর
◆ ইংরেজি লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর
MCQ পরীক্ষায় কোনোভাবে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়ে পরে শুধু লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। ভালো মেধাক্রম তৈরির জন্য শুরু থেকেই MCQ ও লিখিত—দুটি পরীক্ষার প্রস্তুতি একসঙ্গে নিতে হবে।
রাবির আইন অনুষদে চান্স পেতে কীভাবে প্রস্তুতি নেবে?
১. বাংলাকে অবহেলা করা যাবে না
আইন অনুষদের জন্য বাংলা অংশে আলাদাভাবে ৪৫ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে। তাই বাংলা শুধু মোট নম্বর বাড়ানোর বিষয় নয়; বিভাগে বিবেচিত হওয়ার অন্যতম বাধ্যতামূলক শর্ত।
বাংলা প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিতে হবে—
◆ বাংলা ব্যাকরণ
◆ বাংলা সাহিত্য
◆ লেখক ও কৃতি
◆ ভাষা ও শব্দের প্রয়োগ
◆ শুদ্ধ বানান
◆ সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ
◆ বাগ্ধারা ও প্রবাদ-প্রবচন
◆ বিগত বছরের প্রশ্ন
বাংলার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য অনুসরণ করা যেতে পারে বাংলা বিচিত্রা। প্রতিটি অধ্যায় পড়ার পর অধ্যায়ভিত্তিক MCQ সমাধান করলে ধারণা ও উত্তর দেওয়ার গতি—দুটিই বাড়বে।
২. ইংরেজিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে
ইংরেজিতে MCQ-এর পাশাপাশি ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষাও রয়েছে। ফলে ইংরেজির প্রস্তুতি শুধু Grammar ও Vocabulary পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। Reading Comprehension ও Essay নিয়মিত হাতে লিখে অনুশীলন করতে হবে।
MCQ প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে—
◆ Parts of Speech
◆ Tense
◆ Subject-Verb Agreement
◆ Right Form of Verbs
◆ Sentence Correction
◆ Appropriate Preposition
◆ Phrase and Idiom
◆ Synonym and Antonym
◆ Vocabulary
◆ Transformation ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণ
ইংরেজির সমন্বিত প্রস্তুতির জন্য অনুসরণ করা যেতে পারে Exam English। প্রতিদিন অন্তত একটি Reading Comprehension সমাধান এবং সপ্তাহে তিন থেকে চারটি Essay হাতে লিখে অনুশীলন করা উপকারী হবে।
Essay মুখস্থ না করে একটি কার্যকর কাঠামো অনুসরণ করতে হবে—ভূমিকা, মূল আলোচনা, যুক্তি বা উদাহরণ এবং সংক্ষিপ্ত উপসংহার।
৩. সাধারণ জ্ঞানে নিরাপদ স্কোর তৈরি করতে হবে
আইন অনুষদের লিখিত পরীক্ষার জন্য MCQ মেধাক্রমে প্রথম ১,৫০০ জনের মধ্যে থাকতে হবে। বাংলা ও ইংরেজির শর্ত পূরণ করেও সাধারণ জ্ঞানে কম নম্বর পেলে মোট মেধাক্রমে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।
সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত—
◆ বাংলাদেশ বিষয়াবলি
◆ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
◆ সাম্প্রতিক ঘটনাবলি
◆ বাংলাদেশের ইতিহাস
◆ ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ
◆ বাংলাদেশের সংবিধান
◆ সরকার ও বিচারব্যবস্থা
◆ ভূগোল ও পরিবেশ
◆ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি
আইন বিভাগ লক্ষ্য হলে সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, মৌলিক অধিকার, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনসংশ্লিষ্ট সাধারণ তথ্য বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে পড়া যেতে পারে।
সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতির জন্য অনুসরণ করা যেতে পারে জয়কলি GK।
৪. বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করতে হবে
বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, পুনরাবৃত্ত টপিক এবং সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়।
প্রশ্ন বিশ্লেষণের সময় দেখতে হবে—
◆ কোন অধ্যায় থেকে বেশি প্রশ্ন আসে
◆ প্রশ্নের ভাষা ও গঠন কেমন
◆ কোন তথ্য বারবার পুনরাবৃত্ত হয়
◆ ৬০ মিনিটে ৮০টি প্রশ্ন কীভাবে সমাধান করা যায়
◆ কোন বিষয়ে নিজের ভুল বেশি হচ্ছে
◆ নেগেটিভ মার্কিংয়ের কারণে কত নম্বর কমছে
এজন্য অনুসরণ করা যেতে পারে জয়কলি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় A ইউনিট প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট।
পরীক্ষায় লক্ষ্য কত হওয়া উচিত?
A ইউনিটের সাধারণ পাস নম্বর ৪০ হলেও আইন অনুষদ লক্ষ্য করা শিক্ষার্থীর জন্য এটি নিরাপদ লক্ষ্য নয়। কারণ লিখিত পরীক্ষায় ডাক পেতে বাংলা ও ইংরেজির আলাদা শর্ত পূরণের পাশাপাশি MCQ মেধাক্রমে প্রথম ১,৫০০ জনের মধ্যে থাকতে হবে।
প্রস্তুতির সময় লক্ষ্য রাখতে হবে—
◆ বাংলায় ৪৫ শতাংশের চেয়ে নিরাপদ ব্যবধান তৈরি
◆ ইংরেজিতে শক্তিশালী MCQ স্কোর
◆ সাধারণ জ্ঞানে ধারাবাহিক নম্বর
◆ নেগেটিভ মার্কিং নিয়ন্ত্রণ
◆ নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট
◆ Reading Comprehension-এ নির্ভুল উত্তর
◆ Essay-তে স্পষ্ট, যুক্তিপূর্ণ ও শুদ্ধ উপস্থাপন
কোনো নির্দিষ্ট সম্ভাব্য কাট-মার্ককে চূড়ান্ত ধরে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত নয়। প্রশ্নের মান, পরীক্ষার্থীদের ফল এবং প্রতিযোগিতার ওপর প্রয়োজনীয় নম্বর পরিবর্তিত হতে পারে।
নেগেটিভ মার্কিং নিয়ন্ত্রণের কৌশল
প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে। তাই সম্পূর্ণ না জানা প্রশ্নে অনুমান করে উত্তর দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রথমে নিশ্চিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে যেসব প্রশ্নে দুটি বা তিনটি বিকল্প সহজে বাদ দেওয়া যায়, সেগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে। সম্পূর্ণ অপরিচিত প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত রেখে দেওয়া ভালো।
প্রতিটি মডেল টেস্টের পর শুধু মোট নম্বর নয়, ভুল উত্তর এবং ছেড়ে দেওয়া প্রশ্নের সংখ্যাও বিশ্লেষণ করতে হবে।
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবে
Reading Comprehension-এর উত্তর Passage-এর তথ্যের ভিত্তিতে লিখতে হবে। নিজের অপ্রাসঙ্গিক মতামত যোগ করা বা Passage থেকে সম্পূর্ণ বাক্য না বুঝে তুলে দেওয়া ঠিক নয়।
Essay প্রস্তুতিতে কয়েকটি লেখা মুখস্থ করার পরিবর্তে বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তি সাজানোর অনুশীলন করতে হবে। উত্তর লেখার সময় সঠিক অনুচ্ছেদবিন্যাস, Grammar, Spelling, Vocabulary এবং বাক্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শেষ সময়ের জন্য রেখে দেওয়া যাবে না। MCQ প্রস্তুতির শুরু থেকেই সপ্তাহে নিয়মিত Comprehension ও Essay লিখতে হবে।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
পরীক্ষার আগের সময়ে নতুন বিষয় পড়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিক ও ভুল প্রশ্নগুলো রিভিশন করা বেশি কার্যকর।
◆ না জানা প্রশ্নে অযথা অনুমান করবে না
◆ বাংলা ও ইংরেজির আলাদা শর্ত মনে রেখে উত্তর করবে
◆ মডেল টেস্টের ভুলগুলো আলাদা খাতায় রিভিশন করবে
◆ Essay মুখস্থ না করে কাঠামো, যুক্তি ও ভাষা অনুশীলন করবে
◆ Comprehension-এর উত্তর Passage-এর ভিত্তিতে লিখবে
◆ পরীক্ষার আগে অন্তত ১০টি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দেবে
◆ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার অভ্যাস করবে
প্রস্তুতির জন্য জয়কলির বই
রাবির আইন অনুষদের লক্ষ্যভিত্তিক প্রস্তুতিতে অনুসরণ করা যেতে পারে—
প্রস্তুতির সহায়ক বই বাংলা বিচিত্রা, Exam English সাধারণ জ্ঞান জয়কলি GK, বিগত প্রশ্ন ও মডেল টেস্ট জয়কলি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় A ইউনিট প্রশ্নব্যাংক ও মডেল টেস্ট
প্রথমে বিষয়ভিত্তিক বই থেকে অধ্যায়ের ভিত্তি তৈরি করতে হবে। এরপর বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করে প্রশ্নের ধরন ও নিজের দুর্বলতা বুঝতে হবে। প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দিয়ে নম্বর, নির্ভুলতা ও সময় ব্যবস্থাপনা যাচাই করতে হবে।
রাবির আইন অনুষদে সুযোগ পাওয়ার তিনটি ধাপ
রাবির আইন অনুষদে ভর্তির পথটি সংক্ষেপে তিনটি ধাপে বোঝা যায়—
বাংলা ও ইংরেজির শর্ত পূরণ → MCQ মেধাক্রমে প্রথম ১,৫০০ জনের মধ্যে অবস্থান → ইংরেজি লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফল
এই তিনটি ধাপের যেকোনো একটিতে পিছিয়ে পড়লে আইন বিভাগ অথবা আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে ভর্তির সুযোগ নষ্ট হতে পারে। তাই শুরু থেকেই লক্ষ্যভিত্তিক এবং সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
শেষ কথা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে চান্স পেতে শুধু A ইউনিটের সাধারণ পাস নম্বর অর্জন যথেষ্ট নয়। বাংলা ও ইংরেজিতে আলাদাভাবে ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নম্বর, MCQ পরীক্ষায় প্রতিযোগিতামূলক মেধাক্রম এবং ৫০ নম্বরের ইংরেজি লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফল—সবগুলো শর্তই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের শক্তিশালী MCQ প্রস্তুতির পাশাপাশি Reading Comprehension ও Essay নিয়মিত অনুশীলন করলে আইন অনুষদে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
তথ্যসূত্র: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও বিভাগভিত্তিক নির্দেশিকা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভর্তি যোগ্যতা, মানবণ্টন, আসন, বাছাইপদ্ধতি বা বিভাগভিত্তিক শর্ত পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পরিবর্তিত হতে পারে। নতুন শিক্ষাবর্ষে আবেদনের আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।




মন্তব্য ও উত্তর
মন্তব্য লোড হচ্ছে…